পাম অয়েল রফতানিতে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিতের আহ্বান ইন্দোনেশিয়ায়

পাম অয়েল রফতানিতে বিদ্যমান শুল্ক ৩ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।

পাম অয়েল রফতানিতে বিদ্যমান শুল্ক ৩ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। আজ থেকে নতুন এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শুক্রবার স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন গাপকি। খবর রয়টার্স।

উল্লেখ্য, বর্ধিত এ শুল্ক থেকে অর্জিত অর্থ বায়োডিজেল মিশ্রণ নীতিমালা বাস্তবায়ন ও পাম বাগান পুনঃরোপণ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটির আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার রফতানি প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রাওয়াতিকে লেখা এক চিঠিতে গাপকি জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি ‘প্রচণ্ড অনিশ্চয়তায়’ পূর্ণ। এমন সময় এ নীতি কার্যকর করা ঝুঁকিপূর্ণ। এটি রফতানি প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

পাম তেল শুল্ক সংগ্রহকারী তহবিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাপকির এ অনুরোধ নিয়ে আগামী সপ্তাহে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা অর্থনৈতিকবিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটি ৩২ শতাংশ হারে শুল্কের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বৃহৎ উৎপাদনকারী মালয়েশিয়ার জন্য এ হার ২৪ শতাংশ। যদিও এ শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

গাপকি জানিয়েছে, ‘এ অবস্থায় রফতানি শুল্ক বাড়ানো ইন্দোনেশিয়ার জন্য প্রতিকূল হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মালয়েশিয়ার তুলনায় ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। শুল্ক বাড়ালে সে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

মালয়েশিয়া বর্তমানে ৩-১০ শতাংশ হারে পাম অয়েল রফতানি শুল্ক আরোপ করে। চলতি মে মাসে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

এর আগে অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানি ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপ কমাতে অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানির আলাদা করহার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ কর রফতানি শুল্ক থেকে আলাদা।

এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাজারে চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে গাপকি জানিয়েছে।

সংগঠনটি জানায়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না থাকায় উভয় দেশের ক্রেতারা কাঁচা পাম অয়েল ও পাম অয়েলজাত পণ্যের ক্রয়াদেশ স্থগিত রেখেছেন।

আরও